অনুগল্প বা ফ্ল্যাশ ফিকশন কি?
অনুগল্প বা ফ্ল্যাশ ফিকশন হল অতি সংক্ষিপ্ত গল্প। এটা সাহিত্য ক্ষেত্রে নেট দুনিয়ার একটা আধুনিকতম ট্রেন্ড। প্রাচীন সাহিত্যেও ফ্ল্যাশ ফিকশনের নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে সাহিত্যের মূল স্রোতে ফ্ল্যাশ ফিকশন বা অনুগল্পকে আনার জন্য ইন্টারনেটের ভুমিকা অনস্বীকার্য। প্রথম প্রথম অনেকেই অণুগল্পকে মূল সাহিত্যের ধারা বলে মানতে চাইতেন না। একে অনেকে ফ্ল্যাশ ফিকশন, মাইক্রোফিকশন বা মাইক্রোগল্পও বলে থাকেন।
ভালো অনুগল্প লেখার জন্য কয়েকটা পরামর্শ:
বর্তমান যুগে অনুগল্পকে এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। বরং অনুগল্প নেট দুনিয়ায় বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। অনুগল্প মাত্র কয়েকটা বাক্য বা অনুচ্ছেদে কঠিন বাস্তব, হৃদয়গ্রাহী আবেগ এবং সর্বজনীন প্রতিবাদ প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখে। অনুগল্পের সর্বোচ্চ শব্দ সীমা, কিংবা একটা অনুগল্প ঠিক কতটা বড় হবে সেটা নিয়ে মতানৈক্য আছে। অণুগল্প কয়েকটা শব্দ বা বাক্যে থেকে কয়েকটা অনুচ্ছেদ পর্যন্ত চলতে পারে। তবে কখনই ছোটগল্পের মত কয়েক পৃষ্ঠা হবে না। এটা রপ্ত করা বেশ কঠিন। ভাল অণুগল্প লিখতে হলে আমাদের আগে এর বৈশিষ্ট্য গুলো জেনে নিতে হবে।
ফ্ল্যাশ ফিকশন বা অণুগল্পের বৈশিষ্ট্য সমূহ:
১. সম্পূর্ণ গল্প থাকবে – এটি কবিতার মতো আবেগের একক প্রকাশ নয়। অণুগল্পে একটা সম্পূর্ণ গল্প থাকবে, যা শুরু থেকে ক্লাইমাক্স পর্যন্ত প্রবাহিত হবে। অর্থাৎ যেকোনো গল্পের মতই এর একটা শুরু, ঘটনা প্রবাহ এবং শেষ থাকবে।
২. টুইস্ট – অণু গ্লপের শেষে বা ক্লাইম্যাক্সে একটা টুইস্ট থাকবে যা পাঠকের কাছে অপ্রত্যাশিত।
৩. সংক্ষিপ্ত আকার – যদিও কোন নির্দিষ্ট শব্দ সীমা নেই, অণুগল্প আকারে সংক্ষিপ্ত হয়। অনেকে দাবি করেন, অণুগল্প ১০০০ শব্দের মধ্যে হওয়া উচিত। তবে এই দাবি সর্বজনগ্রাহ্য নয়।
৪. সীমিত সংখ্যক চরিত্র – অণুগল্পে যথা সম্ভব কম চরিত্র রাখলে লেখকের সুবিধা হয়।
৫. ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভ – অণুগল্প লেখার সময় ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভ বা লেখকের প্রত্যক্ষ বর্ণনা ব্যাবহার করা সুবিধা জনক।
৬. সীমিত সংখ্যক দৃশ্যপট – সম্ভব হলে অণুগল্প একক দৃশ্যপটে রচনা করা উচিৎ। না হলে একটা বা দুটো দৃশ্যপটে সীমাবদ্ধ রাখা উচিৎ।
৭. নামকরণ – অণুগল্পের নামকরণে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিৎ। যেহেতু অনুগল্পে বেশি ব্যাখ্যা করার উপায় থাকে না এখানে অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা বাদ দিতে হয়। ফলে অণুগল্পের নামকরণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটা পাঠককে গল্পটা বুঝতে সাহায্য করে।
৮. সৃজনশীলতা – একটি ভাল অণুগল্প লেখার জন্য চূড়ান্ত সৃজনশীলতা প্রয়োজন। অনুগল্পের সমস্ত বৈশিষ্ট্য গুলো মাথায় রেখে লেখা বেশ কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন লেখকের সৃজনশীলতা।