নয়ডার টুইন টাওয়ার, মশা, হাতি এবং জামলো মকদম।
লিখেছেন মৌসুমী বিলকিস এবং জুয়েল চন্দ।
আজ ধনঞ্জয়ের কথা হঠাৎ খুব মনে পড়ছে। দীপ মুখোপাধ্যায়ের একটা লেখা সকাল থেকে মনে মনে আউড়াচ্ছি, “ফাঁসিতে ঝুলল ধনা, মিডিয়ার কি বর্ণনা, আমাদের হ্যাংলাপনা, নাটাদার ধান্দা গোনা”
ধনঞ্জয়ের কথা ভুলেই গেছিলাম। মনে পড়লো, এই এখন। কি যে আসলে হয়েছিল কে জানে! আমার শুধুই মনে হয় ক্ষমতাহীন মানুষেরা কেমন যেন একটা অন্ধকার হাতড়ে বাঁচে বা ওই ধনঞ্জয়ের মতোই অন্ধকারের ভেতরেই ডুবে যায়।
আসল কথাটি হল, মেয়েটি তো বেঘোরে হারিয়ে গেল। কি বলেন?
সত্যিই কার দোষ কার গুণ সেসব বিচার না করেও বলা যায়, মেয়েটির তো কোন দোষ ছিল না। সে তো হারিয়েই গেল।
আজকে হারিয়ে যাচ্ছে, কুতুব মিনারের থেকেও উঁচু, নয়ডার টুইন টাওয়ার। তার তো কোন দোষ ছিলোনা। কতদিন ধরে কত গরীব মানুষের অস্থিমজ্জা পিষে পিষে তৈরি করা ইমারত। মাত্র নয় সেকেন্ডে ধ্বংস করে দিতে পারার কি উল্লাস। মিডিয়ার বর্ণনা, আর আমাদের হ্যাংলাপনাটা একদম একই রকম। এই যে একটা ধ্বংস ধ্বংস ভাব। এটা মানুষের, মানে আমাদের, ভীষণ পছন্দ।
অথচ, ব্যক্তি মানুষ বা সম্মিলিত মানুষ বা রাষ্ট্র সত্যিই কি কিছু তৈরি করে যে ভাঙার অধিকার থাকবে তার? শুধু ভাঙার কথা বলছি না, চারিদিকে যে হত্যা, ধ্বংস ও দখলের উল্লাস সব মিলিয়েই বলছি। এ বিষয়ে হয়তো সবসময় মানুষের গ্লানিবোধও থাকে বলে মনে হয় না।
বিস্তার করি যদি-
ধরুন, মশা মারি আমরা, প্রায় প্রতিদিনই, গ্লানিবোধ কি থাকে আমাদের? না তো! আমারও থাকে না। অথচ দেখুন, হাতি মারা পড়লে মিডিয়ায় খবর হয়। এটা একটা দ্বিচারিতা নয়? মশার শরীর তুচ্ছ বলেই, রোগের জীবানু বহন করে বলেই তাকে মেরে ফেললেও গ্লানি হবে না? মানুষের শরীরও তো বহন করে এবং ছড়ায় কত জীবানু।
এজন্যই বুদ্ধদেবকে আমার বেশ লাগে, জৈনদেরও। কতটা সেনসিটিভ হলে একজন মানুষ মশা, এমনকি উকুন মারতেও দ্বিধা বোধ করতে পারেন, নিষেধ জারি করেন জীব হত্যায়।
আর মানুষের কথাতেই যদি আসি, এই মশা ও হাতির রূপক বহন করে মানুষ জন্ম। কোনও জনগোষ্ঠি বা শ্রেণিগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষেরা মরে গেলে বা তাদের হত্যা করা হলে সত্যিই কি কিছু যায় আসে কারও? রেললাইনে পড়ে থাকে রক্ত মাখা রুটি, ছোট্ট বালিকা জামলো মকদম লুটিয়ে পড়ে জঙ্গলের ভেতর।
অথচ দেখুন, কিছু মানুষ সুবিধাই পেয়ে যায় শুধু।