“অর্জন”
বটবৃক্ষের মতো বিশালতা অর্জন করো,
স্নেহ, প্রেম, ভালোবাসা, দয়া, মায়া, ত্যাগ, ক্ষমার মতো
বিশেষ বিশেষ গুনে তোমার হৃদয় পরিপূর্ণ হোক,
বটমূলের মতো তোমার গুনাবলী…
মানবিকতার জমিতে প্রোথিত হয়ে সঞ্চারিত হোক।
বটবৃক্ষের মতো প্রাণিকুলের আশ্রয় হয়ে ওঠো,
বটবৃক্ষের মতো সহনশীল হও,
তোমার সহনশীলতা ও বিশালতা,
তোমার মানবিকতার পরিচয় বহন করুক,
আদিমতাই হোক তোমার অকৃত্রিমতা।
তোমার মানবিক গুণাবলী বিস্তারিত করো,
দিকে দিকে মেলে দাও, ছড়িয়ে দাও, ব্যাপ্ত করে দাও,
বটবৃক্ষের সুবিস্তৃত শাখাপ্রশাখার মতো।
বটবৃক্ষের সবুজ পাতাগুলির মতো তোমার চেতনা
বায়ুমণ্ডল থেকে শোষণ করুক যাবতীয় দূষণ,
এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
বটবৃক্ষের পাতার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রন্ধ্রের মতো তোমার বোধ
বায়ুমণ্ডলে সরবরাহ করুক বিশুদ্ধ অক্সিজেন,
দূষণমুক্ত হোক পরিবেশ।
প্রাণীকুল তোমার কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ হোক,
আর তুমি নিজেও কৃতার্থ হও।
বাতাসের আন্দোলনে যেমন বটবৃক্ষের শাখাপ্রশাখা আন্দোলিত হয়,
অনুরণন হয় বাতাসের শীতল মোহময় ভাষার,
বটবৃক্ষ খুশি হয়, নাকি সুখি হয় নিজের কাজে,
তার হিসেব যেমন কেউ রাখে না,
তেমন তোমার ক্রিয়াকলাপে তোমার কিছু যায় আসে না,
কিন্তু তোমার কাজে তোমার পরিমণ্ডলের নিশ্চিত কিছু সুখ রচিত হয়,
তাতেই করে নিও নিজের সুখসন্ধান।
তুমি ঋণী করো সমাজকে, নিজে ঋণী না থেকে,
তুমি বিশুদ্ধ করো সংসারকে, নিজে বিশুদ্ধ থেকে,
তুমি বৃহৎ মহৎ হও দানে-ধ্যানে, গরিমায় উদ্দীপ্ত করো,
ধৈর্যের দীপশিখায় দুঃখকে পুড়িয়ে দাও, বিনষ্ট করো কষ্টবোধ,
তোমার ধীর-স্থির প্রজ্ঞা অন্তরে অন্তরে
সবুজ বিপ্লবের অনুঘটক হয়ে উঠুক।
জাগ্রত হোক জ্ঞানের শিখা, নির্বাপিত হোক হিংসা-দ্বেষ,
তোমার সর্বংসহা প্রকৃতি হোক প্রকৃত বটবৃক্ষের মতো,
যেন কোনও ঝড়-ঝঞ্ঝা শত চেষ্টাতেও কখনও
তোমাকে সমূলে উৎপাটিত করতে না পারে।
জীবন তোমাকে অভিবাদন জানাক,
জানাক অশেষ অভিনন্দন… তুমি বটবৃক্ষের মতো সবল হও,
তাই হোক তোমার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।
© সংঘমিত্রা রায়চৌধুরী