বাংলা কবিতা – দূর্ভাগ্যের অভাগা শিক্ষক
আজ আমি নরক থেকে বলছি,
অপবিত্র রক্তের বিকৃত মানুষের কথা বলছি।
চারিদিকে বীভৎস এক আত্মচিৎকার!
যে হাতের পরশে গড়ে উঠে সভ্যতার ভিত্তি,
যে কাঁধের উপর ভর দিয়ে দেখি আগামীর পথ,
যে শিখায় মুক্তির গান, দেখায় স্বপ্নের ঠিকানা,
সে আজ অবহেলিত, অত্যাচারিত, লুণ্ঠিত।
দূর্ভাগ্যের কাঁটাতারে সেই অভাগা শিক্ষক আজ মাটিতে লুটায়,
প্রত্যেহ হজম করে শশ্মান ট্রাজেডি,
দূষিত বাতাসে উড়ে চলা শকুনেরা খুবলে খায় জাতির মেরুদণ্ড।
এ যেন নগ্নতার রাজত্ব!
নির্যাতন ও নির্মমতার পাহাড়,
ঘূণেধরা উচ্ছন্ন সমাজ,
অস্তিত্বে লালন করে পিতৃ লালসার জারজ সন্তান।
যে দেশে, মানুষ গড়ার কারিগরের গলায় জুতার মালা ঝুটে,
কান ধরে ওঠবস ক’রে ছাত্রের পায়ের উপর লুটে,
পিটিয়ে করে হত্যা,
সভ্যতার সেই নৃশংস বর্বরতা।
সেখানে সম্মান ও শ্রদ্ধা কি আর আশা করা যায়!
যে শব্দটি শোনালে শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসার কথা।
যে শব্দটি মানেই জ্ঞানের মশাল হাতে ছুটে ছুটে চলা,
যে শব্দটি সুমহান জাতি গড়ার কারিগর,
কেন করো তারে আজ অপদস্ত, লাঞ্ছিত,
কেন করো শ্রেষ্ঠত্বের আসনকে তোমরা কলঙ্কিত।
দুঃসহ যাতনায় ঠুকরে ঠুকরে আধমরা আজ জাতি,
ধরিত্রীর হৃদয় ধরফরে কাঁদে সৃষ্টি বিশ্বপতি,
কোথায় তবে আজ মানবতা!
ঘুমিয়ে গেছে মুখের ভাষা, লাশের পড়ে লাশ,
চারিদিকে একি দেখি শুধুই সর্বনাশ।
তাই আজ আমি ডাইরীর পাতায় লিখে গেলাম বীভৎস এক ইতিহাস।