বাংলা কবিতা। বাংলাদেশ থেকে লিখেছেন দিলীপ গমেজ, ‘দূর্ভাগ্যের অভাগা শিক্ষক’

বাংলা কবিতা – দূর্ভাগ্যের অভাগা শিক্ষক

আজ আমি নরক থেকে বলছি,

অপবিত্র রক্তের বিকৃত মানুষের কথা বলছি।

চারিদিকে বীভৎস এক আত্মচিৎকার!

যে হাতের পরশে গড়ে উঠে সভ্যতার ভিত্তি,

যে কাঁধের উপর ভর দিয়ে দেখি আগামীর পথ,

যে শিখায় মুক্তির গান, দেখায় স্বপ্নের ঠিকানা,

সে আজ অবহেলিত, অত্যাচারিত, লুণ্ঠিত। 

 

দূর্ভাগ্যের কাঁটাতারে সেই অভাগা শিক্ষক আজ মাটিতে লুটায়,

প্রত্যেহ হজম করে শশ্মান ট্রাজেডি,

দূষিত বাতাসে উড়ে চলা শকুনেরা খুবলে খায় জাতির মেরুদণ্ড।

এ যেন নগ্নতার রাজত্ব! 

নির্যাতন ও নির্মমতার পাহাড়,

ঘূণেধরা উচ্ছন্ন সমাজ,

অস্তিত্বে লালন করে পিতৃ লালসার জারজ সন্তান।

 

যে দেশে, মানুষ গড়ার কারিগরের গলায় জুতার মালা ঝুটে,

কান ধরে ওঠবস ক’রে ছাত্রের পায়ের উপর লুটে,

পিটিয়ে করে হত্যা,

সভ্যতার সেই নৃশংস বর্বরতা। 

সেখানে সম্মান ও শ্রদ্ধা কি আর আশা করা যায়!

 

যে শব্দটি শোনালে শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসার কথা।

যে শব্দটি মানেই জ্ঞানের মশাল হাতে ছুটে ছুটে চলা,

যে শব্দটি সুমহান জাতি গড়ার কারিগর,

কেন করো তারে আজ অপদস্ত, লাঞ্ছিত,

কেন করো শ্রেষ্ঠত্বের আসনকে তোমরা কলঙ্কিত।

 

দুঃসহ যাতনায় ঠুকরে ঠুকরে আধমরা আজ জাতি,

ধরিত্রীর হৃদয় ধরফরে কাঁদে সৃষ্টি বিশ্বপতি,

কোথায় তবে আজ মানবতা!

ঘুমিয়ে গেছে মুখের ভাষা, লাশের পড়ে লাশ,

চারিদিকে একি দেখি শুধুই সর্বনাশ।

তাই আজ আমি ডাইরীর পাতায় লিখে গেলাম বীভৎস এক ইতিহাস।

Author

  • দিলীপ গমেজ

    পরিচিতিঃ ১৯৭৫ সালে ৩১শে জানুয়ারি গাজীপুর জেলার অন্তর্গত কালীগঞ্জ থানার নাগরী ইউনিয়নের ধনুন গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন। পিতাঃ মৃত- সিরিল গমেজ, মাতাঃ হাসি আন্না গমেজের পাঁচ ছেলে মেয়ের মধ্যে তিনি কনিষ্ঠ সন্তান। স্কুল জীবন থেকে দিলীপ গমেজ এর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আগ্রহ জন্মায়। নাগরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চতুর্থ শ্রেণী পাশ দিয়ে ভর্তি হন নাগরী মিশনারি স্কুল সেন্ট নিকোলাস বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এস এস সি এবং ঢাকা তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচ এস সি ও স্নাতক পাশ করে ঢাকা কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে মাস্টার্স পড়েন। অনেকটা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠা এই মানুষটি কলেজ জীবন পার করেন মঞ্চ থিয়েটার করেন। লেখালেখি ছিল তার অবসর সময়ের সঙ্গী স্বরূপ। এই যাবত তার কোন একক গ্রন্থ না বেরুলেও তিনি প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশী কবিতা, আটটি গল্প, তিনটি উপন্যাস ও বারটি নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। এখন তিনি বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়মিত নাটকে অভিনয় করে যাচ্ছেন। তার যৌথ কাব্য গ্রন্থ সমূহ হল,- বাউল মেলা সাহিত্য সংকলন ২০২০, দুই বাংলার লতিফা সংকলন - কলস ২০২০, অন্যভুবন কাব্যজ্যোতি ২০২২। বাংলাদেশ খ্রিষ্টান লেখক ও প্রতিভা বিকাশ পরিষদ "বাড়িয়ে দাও তোমার হাত" – আবেগী জলছবি- ২০২২।

    View all posts